স্বাদ এবং গন্ধ

  • Post author:

গন্ধ এবং স্বাদ এই দুইটি বিষয়ই কেমন জানি পরস্পরের সাথে সংযুক্ত। মাঝে মাঝেই হয়তো আমরা এই দুইটি বিষয়কে পরস্পরের সাথে সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ফেলি। কিন্তু স্বাদ এবং গন্ধ দুটি অন্যরকম বিপরীত দুটি জিনিস। আমরা গন্ধ সম্পর্কে গতদিনও কিছু আলোচনা করেছিলাম। আজকে আমরা খাবার খাওয়ার সময় কোনো কিছুর গন্ধ কিভাবে পাই তা একটু দেখব।আমি গতদিনের আলোচনায় বলেছিলাম যে আমাদের কোনো কিছুর গন্ধ অনুভব করার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের Olfactory receptor, যা আমাদের নাসারন্ধ্রের ভিতরের দিকে অবস্থিত এবং সরাসরি মস্তিষ্কের সাথে সংযুক্ত। এখন এই Olfactory receptor এ যাওয়ার জায়গা কিন্তু শুধুমাত্র নাসারন্ধ্রই না, আমাদের মুখের পেছনের গলার ওপরের দিকের একটি দ্বিতীয় পথের মাধ্যমে আমাদের নাকের ভিতরের অংশ আমাদের মুখগহ্বরের পিছনের অংশের সাথে যুক্ত। আমরা যখন কোনো খাবার খাই, তখন ওই খাবারের অতি ক্ষুদ্র কিছু কণা ওই পথ দিয়ে আমাদের নাকের গহ্বরেও প্রবেশ করে এবং নাকের Olfactory receptor কে উদ্দিপ্ত করে। যার ফলে আমরা সেই নির্দিষ্ট খাবারের জন্য একটি গন্ধ অনুভব করি যাকে আমরা অনেকেই স্বাদ বলে অভিহিত করি। এখন এই প্রেক্ষাপটের সাথে আমরা একটি মজার ঘটনারও যোগ ঘটাতে পারি। মাঝে মাঝে আমাদের মা বাবা আমাদের এমন সব খাদ্যবস্তু খাওয়ানোর চেষ্টা করেন যা আমাদের পক্ষে অনেকসময়ই গলাধকরণ করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওই খাবারের গন্ধই খাবার খেতে আমাদের অনীহা সৃষ্টি করে থাকে। তাই তখন যদি আমরা কখনো খাওয়ার সময় আমাদের নাক কোনোভাবে বন্ধ করে রাখতে পারি তাহলে বাতাসের মাধ্যমে ক্ষুদ্র কণা আমাদের Olfactory receptor এ যেতে পারে না। আর আমরা খাবারের গন্ধও পাই না।এখন প্রশ্ন আসতে পারে আমি তো মুখ দিয়ে খাবার খাচ্ছি তাহলে নাকের সম্পর্ক কোথায়? আমাদের খাবার খাওয়ার সময় আমাদের নাক আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাস এর দায়িত্ব নেয়। এবং আমরা কিন্তু একইসময়ে খাবার গ্রহণ এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের এর কাজ সম্পন্ন করতে পারি না।কারণ নাকের ওই দ্বিতীয় পথের সম্মুখে একটি ঢাকনা থাকে…

Continue Readingস্বাদ এবং গন্ধ

10^Googol = GoogolPlex?

  • Post author:

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবহৃত ওয়েবসাইটের নাম হলো www.google.com। এখন প্রশ্ন আসতে পারে এই নামের অর্থ আসলে কি? কেনোই বা Larry Page এবং Sergey Brin তাদের এই অসাধরণ স্টার্টআপের নাম গুগোল দিয়েছিলেন। এবং অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলো এই "google" শব্দটির জন্ম গণিত জগতের এক বিশাল বড় মাপের সংখ্যা " googol"- এর বিকৃত বানান থেকে। শুধুমাত্র বিশাল বড় মাপের সংখ্যা বললেও হয়তো ভুল হবে। অনেক অনেক বিশাল বড় মাপের সংখ্যা। তাহলে এই ধারনাতীত সংখ্যা সম্পর্কে কিছু জেনে নেওয়া যাক। আমরা সবাই জানি যে, 1 এর পর ছয়টি শুন্য বসালে হয় ১০ লক্ষ। একে সাধারণত  ১ মিলিয়ন (million) বলে অভিহিত করা হয়। কিন্তু তাতে তো বিশাল সংখ্যাটা হলো না। তাই আমরা এরপর আরও ৩ টি শুন্য বাড়িয়ে দেই। উৎপন্ন সংখ্যাটি হবে ১০০ কোটি। যাকে বলা হয় ১ বিলিয়ন (billion)। আবারও ৩টি শুন্য বাড়িয়ে দিই অর্থাৎ ১ এর পর ১২টি শুন্য বসাই। মোটামুটি ভালোই বড় মাপের একটি সংখ্যা পাবো। ১ ট্রিলিয়ন । এইভাবে তিনটি করে শূন্য বাড়াতে থাকলে আমরা পাবো, যথাক্রমে কোয়াড্রিলিয়ন (quadrillion), কুইনটিলিয়ন (quintillion), সেক্সটিলিয়ন(sextillion), সেপ্টিলিয়ন(septillion), অক্টিলিয়ন (octillion), ননিলিয়ন (nonillion),  ডেসিলিয়ন (decillion), আনডেসিলিয়ন(undecillion) ইত্যাদি। কিন্তু সবশেষে 1 এর পরে গুনে গুনে ঠিক একশটা শূন্য যদি আমরা বসাই তাহলে আমরা যে সংখ্যাটি পাবে সেটি হল 1গুগোল (google) অর্থাৎ 10^100=1 । এখন কি ভাবা কঠিন হয়ে যাচ্ছে না সংখ্যাটি কতোটা বড়? আসলেই অনেক বিশাল। হয়তো গুগোল যে একদিন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জ্ঞানকোষ হয়ে দাঁড়াবে এই বিষয়টি মনে হয় Larry Page এবং Sergey Brin আন্দাজ করতে পেরেছিলেন, তাই তাদের কোম্পানির নামটাও এমন বিশাল একটি সংখ্যার সাথে সাদৃশ্য রেখে করেছেন। হতে পারে? এই প্রসঙ্গে গুগোল সংখ্যাটিকে জড়িয়ে আরও একটি সংখ্যার কথা বলা যায় এখন, যেহেতু আমরা সংখ্যার আলোচনায় আছি। সেটি হল গুগোলপ্লেক্স  (googleplex)। 1…

Continue Reading10^Googol = GoogolPlex?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স

  • Post author:

বলা হয়ে থাকে আমাদের ভবিষ্যত পৃথিবীর মুশকিল আহসানকারী। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে আমরা এই দুইটি শব্দের সাথে এমন কোনো যন্ত্রের মিল ঘটিয়ে ফেলি যার হয়ত নিজ থেকে সবকিছু চিন্তা করার ক্ষমতা আছে। আসলে কিন্তু তা না। কিন্তু এখন পর্যন্ত রোবট এমন একটি যন্ত্র যার নিজে থেকে কোনো কিছু, কোনো অপারেটিং প্রোগ্রাম তৈরি করার ক্ষমতা হয় নি। কিন্তু এটা বলা যাবে না যে তার নিজস্ব কোনো কাজ করার সামর্থ্য নেই। কথাগুলো বেশি প্যাচানো লাগতে পারে। সহজ ভাষায় বলি। একটি রোবটের এখন পর্যন্ত কোনো এ্যানালিটিক্যাল পাওয়ার নেই। অর্থাৎ রোবটকে যদি আমি বলে দেই যে পর্যায় সারণির সব মৌলের ভর সংখ্যা তার পারমাণবিক ভর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পায় , তাহলে সে কোনোদিনই ধরতে পারবে না অর্থাৎ বলতে পারবে না যে আর্গনের পারমাণবিক সংখ্যা পটাশিয়ামের থেকে বেশি, পারমাণবিক সংখ্যা কম হওয়া সত্ত্বেও। অর্থাৎ আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সকে আমার বলে দিতে হবে যে তাকে কিভাবে কাজ করতে হবে। আর এই কাজের ইনপুট প্রদান করে থাকে রোবট এর দেহে অবস্থিত কোনো সেন্সর অথবা মনুষ্য ইনপুটের মাধ্যমে।তার মধ্যে এমনভাবে কোডিং করা থাকে যাতে সে যখন একটি নির্দিষ্ট ইনপুট পাবে তখন যাতে তার আউটপুটও নির্দিষ্ট হয়। যেমন আমি একটি রোবটকে নির্দেশনা দিয়ে রাখলাম যে তুমি যদি রুমের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে বেশি দেখতে পাও তাহলে পোঁ পোঁ করে সাইরেন বাজাতে শুরু করবে। এখন এটা হচ্ছে নরমাল প্রোগ্রাম। তাকে আমি বলে দিচ্ছি যে সে কি করবে। কিন্তু এখন যদি আমি এভাবে বলতাম, যে তুমি যদি দেখো তাপমাত্রা বাড়ছে একটি নির্দিষ্ট হারে , তখন তুমি ওই হারটি তোমার মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখবা। এখন রোবটটি শিখে গেলো কি হারে আগুনটি বাড়লে বাসায় আগুন লাগতে পারে। এখন পরবর্তীতে যখন আবার ওই বাসায় আগুন লাগবে তখন সে তার মধ্যে সংরক্ষিত তাপমাত্রা বৃদ্ধির…

Continue Readingআর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স

গন্ধ

  • Post author:

সেটা হতে পারে ভেজা মাটির কিংবা ভাগাড়ের। সাধারণ একটি বিষয় আমাদের জন্য।তাই না? কিন্তু কখনো আমরা কি চিন্তা করেছিলাম যে এই গন্ধ আমরা পাই কিভাবে? আমাদের নাকে এই অনুভূতির জন্মই বা হয় কিভাবে?আমাদের কোনো কিছুর গন্ধ গ্রহণ বা স্বাদ নেওয়ার এই প্রক্রিয়াগুলো আমাদের Chemo-sensory System এর অন্তর্ভুক্ত। আর এই গন্ধের অনুভূতি গ্রহণের প্রধান মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করে এক বিশেষ অনুভূতি বিশেষজ্ঞ কোষ, যাকে olfactory sensory neurons বলা হয়। যারা মূলত আমাদের নাকের টিস্যুর মধ্যে কিংবা কোষের আশেপাশে অবস্থান করে। এই প্রত্যেকটি olfactory কোষ সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে।এবং প্রত্যেকটি olfactory কোষে কেবলমাত্র একটি গন্ধকে (One odor receptor) গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকে। যখনই আমাদের আশেপাশে কোথাও কোনো বস্তু থেকে অতি ক্ষুদ্র কণা (microscopic molecules) ব্যাপনের মাধ্যমে আমাদের আশেপাশে ছড়িয়ে পরে, তখন কিছু কণা বাতাসের সঙ্গে আমাদের নাকেও প্রবেশ করে ।আর তখনই সেই কণাগুলো দ্বারা আমাদের নাকে অবস্থিত olfactory রিসেপ্টরগুলো উদ্দীপ্ত হয়। একটি গন্ধযুক্ত কণা কেবলমাত্র একটি রিসেপ্টরকেই উদ্দীপ্ত করতে পারবে। আর যখন একটি রিসেপ্টর উদ্দীপ্ত হবে, সাথে সাথে সেই সিগন্যাল সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কে একটি গন্ধের অনুভূতি সৃষ্টি করবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক কিভাবে প্রত্যেকটি গন্ধ ঠিকভাবে ধরতে পারে? আমরা প্রত্যেকবার যখন নতুন করে কোনো গন্ধ অনুভব করি তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই গন্ধে একটি আলাদা ট্যাগ লাগিয়ে দেয় । যখন পরবর্তীতে আবার সেই গন্ধটি আমাদের নাকে আঘাত হানে তখন মস্তিষ্কে সেই সিগন্যাল যাওয়ার সাথে সাথেই মস্তিষ্ক বুঝতে পারে যে , আরেহ এটা তো ওই বিরিয়ানীর গন্ধ, ওইদিন যে আমি খেয়েছিলাম। অনেকটা কোনো সুপার শপের পণ্যের ওপর লাগানো প্রাইসট্যাগের বারকোডের মতো। কেউ কোনো পণ্য কাউন্টারে নিয়ে আসলে বারকোড যেমন স্ক্যান করে দেখে যে পণ্যের যাবতীয় তথ্য ও দাম কি। ঠিক তেমনি আমাদের নাকের olfactory রিসেপ্টর হলো বারকোড স্ক্যানার এবং আমাদের মস্তিষ্ক…

Continue Readingগন্ধ

জৃম্ভণ || Yawn

  • Post author:

আজব এক শব্দ। এই শব্দের অস্তিত্বের কথা আমরা খুব কম মানুষই হয়তো জানি। তবে প্রচলিত বাংলায় আমরা জৃম্ভণকে হাই তোলা বলে চিনি। ইংরেজীতে Yawn বলে। এবং আমরা সচরাসচরই হাই তুলে থাকি। মায়ের পেটের সন্তান থেকে মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধও হাই তোলে।কিন্তু আমরা কখনো কি ভেবে দেখেছি আমরা কেন হাই তুলি? সাধারণত এর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিজেরাও এখনো সন্দিহান। তবে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়ে গিয়েছেন, তার মধ্যে কিছু মত এখন বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করব।একটি প্রতিষ্ঠিত ধারণা মোতাবেক বলা হয়, আমরা যখন কোনো কাজ করতে করতে একঘেয়ে অনুভব করি বা ক্লান্ত অনুভব করি অথবা অলসের মতো একদৃষ্টিতে বসে থাকি তখন আমরা সাধারণের চেয়ে কম মনোযোগে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ করি। অর্থাৎ তখন আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের হার অন্যান্য সময়ের থেকে কম হয়ে থাকে। তার ফলে আমাদের রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ অন্য সময়ের থেকে কমে যায়। তখন আমাদের রক্তে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের এই সামঞ্জস্য রক্ষা করার জন্য আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের হাই তুলে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড লেভেলের সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলে। তাহলে কি আমরা যদি বেশি বেশি অক্সিজেন নেই আর কার্বন ডাই অক্সাইড নেই তাহলে কি আমাদের হাই উঠবে না??আরেকটি মতবাদ অনুযায়ী হাই তোলার মাধ্যমে আমাদের দেহের বিভিন্ন টিস্যুর সংযোগকে সহজ করতে সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া আমাদের ফুস্ফুসের আশাপাশে এক ধরনের লুব্রিকেন্ট নিঃসৃত করে যা আমাদের ফুস্ফুসকে কাজ করতে সাহায্য করে।তবে হাই তোলা সম্পর্কে সবচেয়ে মজার এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য হচ্ছে, হাই তোলা অনেকটা সংক্রামক রোগের মতো। আমরা যদি কাউকে হাই তুলতে দেখি( আশেপাশে কেউ যদি হাই তোলে) বা আমরা যদি হাই তোলা নিয়ে আলোচনা করি তাহলে আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের হাই তুলতে বাধ্য করে। এবং আমরা কাউকে দেখেই বা সাদৃশ্যপুর্ণ কোনো বিষয়ের সংস্পর্শে এসেই আমরা সাধারণত হাই তুলে থাকি। এখন আপনি কতবার হাই তুলেছেন এই লেখাটি পড়ার সময়??

Continue Readingজৃম্ভণ || Yawn