বিজি লাইফকে ইজি করতে গুগল (পর্ব ২)

জিবোর্ডঃ কিবোর্ড নাকি ম্যাজিক? আমার হাতের লেখা অনেক খারাপ, আম্মুর ভাষায় কাকের ঠ্যাং-বকের ঠ্যাং টাইপের। যখন স্কুলে পড়তাম তখন ভাবতাম, ইশশ এমন যদি হতো আমি যেটা মুখে বলবো কেউ সেটা লিখে দিবে! মজার ব্যাপার হলো স্কুল কলজ পেরিয়ে ভার্সিটিতে উঠতেই পেয়ে গেলাম সেই ম্যাজিক। তখন একটা প্রজেক্টে কাজ করতাম যেখানে প্রচুর ডেটা টাইপ করে এন্ট্রি দিতে হতো। আমার এই অসহনীয় কাজটা ম্যাজিকের মত সমাধান করে দিলো একটা কিবোর্ড। নাম তার গুগল কিবোর্ড বা GBoard. এরপর আমি মুখে বলে যেতে থাকলাম আর কিবোর্ড সেটা স্পিস টু টেক্সটে কনভার্ট করে আমার কাজটা করে দিতো। এই কিবোর্ডের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আছে। কিভাবে একটু একটু অরে তার ইন্টেলিজেন্স ডেভেলপ করলো সেটা অবশ্য আমি ভালোভাবেই দেখেছি। 'আমি ভাত' এর পরে যে খায় না হয়ে খাই হবে প্রথমদিকে এইটুকু বুঝতে পারতো না প্রথমদিকে আর এখন কি অনায়েসে কঠিন সব লেখা হয়ে যায়। আমিও ভরসা করে খুব দ্রুত টাইপ করতে পারি। যদি ভুল কিছু লিখে ফেলি, জিবোর্ড তার বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে বুঝে নেয় আওরা কি লিখতে চাই আর সেভাবে ঠিক করে দেয়। Gboard Handwriting অনেকগুলো ভাষার পাশাপাশি হাতে লেখাও আয় কিন্তু এই কিবোর্ডে। আপনি হাতে লিখবেন আর সেটা টাইপ হয়ে যাবে, মজা না? গুগল ট্রান্সলেটর আমার জার্মান প্রবাসী বন্ধু আমাকে একবার ম্যাসেজ দিলো "Danke", আমি খানিকক্ষণের জন্য কনফিউজড হয়ে গেলাম। সে কি কোনোভাবে আমাকে গাঁধা বললো? পরে গুগল ট্রান্সলেটর ইউজ করে বুঝলাম সে জার্মান ভাষায় আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। একইভাবে বিশ্বের প্রায় প্রতিটা ভাষা খুব সহজে ট্রান্সলেট করে দেয় গুগল। এখন আর হিন্দি বুঝি না বলে কেউ কটাক্ষ করতে পারে না। এছাড়াও এখানে আছে কনভার্সেশন মোড ফিচার। এই ফিচারের আওতায় অন্য ভাষার মানুষের সঙ্গে নিজস্ব ভাষায় কথা বলা যাবে। উদাহারণস্বরুপ, আপনি ইংরেজি ভাষার কারও সঙ্গে বাংলায় কথা বললে তিনি তা ইংরেজি…

Continue Readingবিজি লাইফকে ইজি করতে গুগল (পর্ব ২)

বিজি লাইফকে ইজি করতে গুগল (পর্ব ১)

গুগল ড্রাইভ: ডিজিটাল দুনিয়ার আশীর্বাদ গুগল ড্রাইভ অনেকটা আশীর্বাদের মত মনে হয় আমার কাছে। ফাইল স্টোরেজ, ডাটা ব্যাকআপ, শেয়ারিং এর মত নিত্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো খুব সহজ করে দিয়েছে গুগল ড্রাইভ। আর এর সাথে গুগল ডক, গুগল ফটোজ ইত্যাদি সংযুক্ত করে ব্যাপারটা আরো সহজ করেছে। ১. অনলাইন স্টোরেজ: গুগল একাউন্ট খুললেই আপনি পাবেন ১৫ জিবি ফ্রি অনলাইন স্টোরেজ। এখানে যেকোনো ফাইল (ছবি, ভিডিও, ডকস, শীট, পিডিএফ ইত্যাদি) স্টোর করতে পারবেন। লিংক শেয়ার করতে পারবেন যেকারো সাথে। ২. শেয়ারিং: ধরুন আপনি কাউকে একটা ফাইল পাঠাবেন, স্বাভাবিকভাবে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঠাই। কিন্তু সেখানে ফাইলটি কম্প্রেস করে সাইজ কমানো হয়। তাই কোয়ালিটি কমে যায়। যদি মেইলে পাঠাতে চান সেক্ষেত্রে ২৫ মেগাবাইট এর বেশি ফাইল সাইজ হলে পাঠাতে পারবেন না। তাহলে উপায়? খুবই সহজ, ড্রাইভে আপলোড করে লিংক শেয়ার করুন।  ৩. শেয়ারড ফোল্ডার: এছাড়া ড্রাইভে কোনো ফোল্ডার শেয়ার করতে পারেন। কোনো ফোল্ডার টিমের সাথে শেয়ার করে সেখানে সবাই নিজের ড্রাইভ থেকে ফাইল আপলোড, ডাউনলোড করতে পারেন। এছাড়া গুগল ড্রাইভ কে সার্ভার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। এখানে কোনো ফাইল রেখে সেটার ডাউনলোড লিংক ব্যাবহার করতে পারেন আপনার সুবিধামত কাজে। গুগল ডকসের হিডেন সিক্রেট গুগল ডক- এই নামটি সবার পরিচিত হলেও এর অনেক কাজই আমাদের অজানা। গুগলের অনেকগুলো সেবার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গুগল ডক। বর্তমানে এই সেবাটিকে গুগলের অনলাইন স্টোরেজ সুবিধা গুগল ড্রাইভের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ১. টেমপ্লেট গ্যালারি: গুগল ডকের আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে টেমপ্লেট গ্যালারি। এই টেমপ্লেট গ্যালারিতে দারুণ দারুণ সব টেমপ্লেট রয়েছে। এখান থেকে সহজেই প্রয়োজন অনুযায়ী বাছাই করা যায় পছন্দের টেমপ্লেটটি। বিভিন্ন টেমপ্লেট ব্যবহার করে আপনি সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন যেকোন সার্টিফিকেট, প্রজেক্ট অথবা চমৎকার একটি সিভি। ২. অফলাইন এডিটিং: গুগল ডকে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই যে কোন ডকুমেন্ট ক্রিয়েট, এডিট এবং ভিউ করা…

Continue Readingবিজি লাইফকে ইজি করতে গুগল (পর্ব ১)

গুগল ক্রোম ডাইনোসর গেম হ্যাকস

আমরা প্রায় সবাই কমবেশি পিসিতে গুগল ক্রোম ব্যাবহার করি। ইন্টারনেট না থাকলে ক্রোমে ডাইনোসর গেম খেলা যায় সবাই জানো নিশ্চয়ই। ডাইনোসরের চলার পথে বিভিন্ন বাঁধা থাকে যেগুলো লাফিয়ে পার হতে হয়। আর সামনে থাকা অবস্ট্রাকলে টাচ করলেই গেম ওভার হয়ে যায়। আজ আমরা এই গেম নিয়ে কিছু ইন্টারেস্টিং ব্যাপার দেখবো। প্রথমত বলে নেই, এই গেমটি যে শুধু ইন্টারনেট না থাকলেই খেলা যাবে এমন না। যেকোন সময় গুগল ক্রোম ব্রাউজার থেকে এই লিংকে গেলে গেমটি খেলতে পারবে। প্রথমেই আমরা দেখবো কিভাবে গেম ওভার না করে আজীবন গেমটি খেলা যায়। এটার জন্য গুগলের প্রোগ্রামের মধ্যে নিজেদের কিছু কমান্ড ঢুকিয়ে দিতে হবে। মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে Inspect নামে একটা অপশন পাবে। সেখানে ক্লিক করলে এই ওয়েবপেজের কিছু কোড দেখতে পাবে। নিচে থাকা 'Console' ট্যাবে ক্লিক করে কিছু কমান্ড দিলেই ডাইনোসর গেম চলবে তোমার কথা মত।  ট্যাবে আমরা লিখবো "Runner.instance_.gameOver = () => { }" । গুগলের কোড অনুযায়ী সামনে কোনো বাঁধা স্পর্শ করলে গেম ওভার হয়ে যাওয়ার কথা। এই কোড লিখে বলে দিলাম গুগলের কোড বাদ রেখে আমাদের কথা শুনো। আর gameOver ফাংশনটি এভাবে রাখার অর্থ কোনো বাঁধা স্পর্শ করলেও গেম ওভার হবে না। জাভাস্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করলে এসব নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবে। এখন যদি প্রেস করে গেমটি খেলো তাহলে আর গেম ওভার হবে না। সারাজীবন দৌড়াতে থাকবে ডাইনোসর। বাট স্পিডটা একটু কম মনে হচ্ছে না? আমাকে যেহেতু খেলায় না লাগে তাহলে স্পিড বেশি না হলে মজা কি? এবার চলো দৌড়ের স্পিড বাড়ানো যাক। আগের মতই রাইট বাটন ক্লিক করে 'Console' ট্যাব ওপেন করি। এবার লিখি "Runner.instance_.setSpeed(6000)"। অর্থাৎ এবার স্পিডে আমার মত করে ৬০০০ সেট করলাম। এই স্পিডের ভ্যালু তুমি তোমার ইচ্ছামত সেট করতে পারো। এবার প্রেস করলে ডাইনোসর খুব দ্রুত দৌড়াবে, তোমার…

Continue Readingগুগল ক্রোম ডাইনোসর গেম হ্যাকস

হ্যাকিং জিনিসটা কি?

আমরা প্রায় শুনে থাকি,  "আমার ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হইছে বা হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করেছে কেউ।” “অমুকের একাউন্ট হ্যাক করে কেউ সব টাকা নিয়ে নিয়েছে।” এই ধরনের কথা।  আমরা যত ডিজিটাল হচ্ছি ততই বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিং সংক্রান্ত ব্যাপার দেখতে পাচ্ছি। ডিজিটাল জগতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জানতে হবে সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে। জানতে হবে হ্যাকিং সম্পর্কে। কিন্তু হ্যাকিং কী? কারা হ্যাকার? কীভাবে আসলে তারা হ্যাক করে? এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। সেগুলো নিয়েই আজকে কথা বলবো। হ্যাকিং আসলে কী?  কোন ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া যদি অন্য কোন ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে বা নেটওয়ার্কে বা কম্পিউটারে প্রবেশ করে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গ্রহণ করা, মুছে ফেলা বা এমন কোনভাবে পরিবর্তন করা যা ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকারক হয়, তাহলে তাকে হ্যাকিং বলা হয়। এমনকি আপনি যেসব ক্র্যাক সফটওয়ার ব্যবহার করেন তা এই হাকিং এর দৌলতেই। হ্যাকিং এর মাধ্যমে কি করা যায়?  কার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি করা, একাউন্ট জিম্মি করে ব্ল্যাকমেইল, ভাইরাস বা কোন ক্ষতিকর প্রোগ্রামের মাধ্যমে আক্রমণ এই সব কিছুই হ্যাকিং এর মাধ্যমে করা সম্ভব। পিসি, মোবাইল ফোন, গাড়ি ট্র্যাকিং, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও  ডিজিটাল যন্ত্র সবকিছুকেই হ্যাকিং এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।  হ্যাকাররা সাধারণত বিভিন্ন নেটওয়ার্ক, ওয়েবসাইট বা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের ত্রুটি বের করে সেই ত্রুটির ওপর ভিত্তি করেই হ্যাক করে। হ্যাকিং এর শুরু: গত শতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মূলতঃ ম্যাসাচুসেট ইনস্টিটিউড অফ টেকনোলজি (MIT) এর কিছু শিক্ষার্থী তাদের মেধার সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য গঠন করে বিশেষ একটি দল, যারা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় চিন্তা ও দক্ষতায় অনেক এগিয়ে। যেকোনো প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধানের জন্য MIT এর এই দলই শেষ ভরসা। এই দলেরই প্রত্যেক সদস্যকে বলা হত হ্যাকার। ধীরে ধীরে কম্পিটারের ব্যবহার বেড়ে যায় বহুগুণে। বর্তমান সময়ের হ্যাকিং এর যে ধারা তারও বীজ…

Continue Readingহ্যাকিং জিনিসটা কি?

Compiler এবং IDE

প্রোগ্রামিং শুরু করতে প্রথমেই জানতে হবে Compiler এবং IDE এর পরিচিতি। Compiler এবং IDE দুইটা আলাদা জিনিস। প্রোগ্রামিং করছেন এমন অনেক মানুষই আছে যারা এ দুটোর পার্থক্য জানেনা। আজকে আমরা এটি নিয়েই কথা বলবো। Compiler কি? Compiler আমাদের লেখা প্রোগ্রামকে (source code) মেশিন কোডে কনভার্ট করে। অর্থাৎ, কম্পাইলার আমাদের কোড পুরোটা আগে চেক করে কোনো ভুল আছে কি না। ভুল থাকলে এরর দেখায় এবং কোড কাজ করে না। আর ভুল না থাকলে মেশিনকোডে ট্রান্সলেট করে। মেশিনকোড আসলে কম্পিউটারের মাতৃ ভাষা। যেখানে 0 এবং 1 ছাড়া আর কিছুই নেই। IDE কি? IDE এর পূর্ণরূপ Integrated Development Environment.কোড লেখার জন্য আমাদের একটা টেক্সট এডিটর প্রয়োজন আর প্রয়োজন একটি কম্পাইলার। IDE তে টেক্সট এডিটর আর কমপক্ষে একটা কম্পাইলার থাকে। এটা একটা কম্পিলিট টুলস, যেটা দিয়ে আমরা আমাদের কোড লেখা বা কোডকে এডিট, সেভ, ডিবাগ, জেনারেট, ইন্টিগ্রেট করতে পারি। এক কথায় IDE হল একটি সফটওয়্যার, যেখানে কোড লিখা হয়, কম্পাইল করা হয় এবং এক্সিকিউট করা হয়।IDE তে কোড লেখার সময় কোড অটো কমপ্লিশন সাজেশন দেয়া থাকে। ফলে কোড লেখা আরো সহজসাধ্য করতে IDE। এছাড়া কোডে ভুল থাকলে IDE সেটা চিহ্নিত করে দেয় এবং Debugging ও করতে পারে। সহজ কথায় IDE আমাদেরকে প্রোগ্রামিং করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ধরনের Environment তৈরি করে দেয়। তাই এর নাম Integrated Development Environment । সি প্রোগ্রামিং শেখা বা কোডিং প্র্যাকটিস করার জন্য বেশ অনেক রকমের কম্পিউটার সফটওয়্যার (IDE) এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে। এছাড়া অনলাইনেও যে কোন ব্রাউজার ওপেন করে সেখানে কোডিং করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শুধু তোমার নেট কানেকশন থাকলেই চলবে। তবে কোন একটি IDE ইন্সটল করে সেখানে কোড করার সুবিধা বেশি। এতে অফলাইনে কোডিং করতে পারবে। কম্পিউটারে সি কম্পাইলার / IDE ইনস্টল করাসি প্রোগ্রামিং করার জন্য Code Blocks, Visual Studio Code…

Continue ReadingCompiler এবং IDE