BCI এবং এর ভবিষ্যৎ

BCI এই প্রযুক্তির সাথে আমরা অনেকে পরিচিত নই।  BCI এর পূর্ণরূপ হল Brain Computer Interface। এর নাম থেকে এই প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা করা যাচ্ছে। এই প্রযুক্তির সহায়তায় মানুষের ব্রেইনের সাথে Computer এর যোগাযোগ স্থাপন করা হই। ভাবতেই কেমন জানি অবাক লাগে তাই না? আমরা জানি আমাদের ব্রেইনে অসংখ্য (প্রায় ৮৫ বিলিয়ন) নিউরন আছে।  এই নিউরন নিজেদের মধে্য সিন্যাপ্স এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে।যোগাযোগ করার জন্য তারা একধরণের ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল ব্যবহার করে যাকে Action Potential বলে। এই Action Potential এক ধরণের Electric Field তৈরি করে যা আমরা মাথার উপর কিছু ইলেকট্রোড স্থাপন করে রিড করতে পারি। এটি সাধারণত EEG (electroencephalography) দ্বারা করা হয়। এই রিডকৃত ডাটা কম্পিউটারে পাঠানো হয় যা আমরা আউটপুট হিসেবে দেখি। এটি হল BCI এর মোটামুটি একটি বেসিক ধারণা BCI এইভাবে কাজ করে। যদিও বিষয়টা অতটা সহজ নয়। আমাদের যতসব চিন্তা-ভাবনা , কাজকর্ম, স্মৃতি, আবেগ সবকিছু ব্রেইনের নিউরন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই BCI দিয়ে কি করা যায় তা কল্পনার ও বাইরে। আমি এখন আলোচনা করব BCI দিয়ে ভবিষ্যৎ এ কি করা সম্ভব হবে। টেলিপ্যাথিক ইন্টারনেট  :                        টেলিপ্যাথি সম্পর্কে হয়তো  অনেকে জান। টেলিপ্যাথি মানে হল কোন ইন্দ্রিয় ব্যবহার না করে মনে মনে অনে্যর সাথে যোগাযোগ করা। এই টেলিপ্যাথি যোগাযোগ BCI এবং CBI দ্বারা করা সম্ভব। CBI হল Computer Brain Interface অর্থাৎ BCI এর উল্টো। এইখানে TMS (transcranial magnetic stimulation) ব্যবহার করে Computer কোন word আমাদের ব্রেইনে রাইট (write) করে এবং word টি কি তখন আমরা বুঝতে পারি। কোন একটি word এর জন্য ব্রেইনে যে frequency তৈরি হয় TMS টিক সে frequency তৈরি করে যার জন্য word টি আমরা বুঝতে পারি। তাহলে BCI ও CBI দ্বারা টেলিপ্যাথি যোগাযোগ কিভাবে করা যাবে বুঝতেই পারতেস, BCI দ্বারা কারো ব্রেইন থেকে word রিড (read)…

Continue ReadingBCI এবং এর ভবিষ্যৎ

HDD,SSD নাকি SSHD? কোনটা নিব?

নতুন ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ নিতে যাচ্ছেন। কিন্তু HDD নিবো নাকি SSD নিবো নাকি SSHD নিবো এ নিয়ে চিন্তাই আছেন ?🤔🤔  এগুলো আসলে কী বা এগুলোর সুবিধা অসুবিধা কী অথবা কোনটি ভালো হবে এটাই এখনও জানেননা। তাহলে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা যাক। HDD/SSD/SSHD এগুলো কী? :- এগুলো হচ্ছে স্টোরেজ ডিভাইস। যেখানে কম্পিউটারের ডাটা সংরক্ষণ করে রাখা হয়। ১/ HDD (Hard Disk Drive): হার্ড ড্রাইভ স্টোরেজ ডিভাইস যা অনেক আগে থেকেই ডেক্সটপ এবং ল্যাপটপে ব্যবহার হয়ে আসছে। HDD একটি মেকানিক্যাল ডিভাইস মানে এটাতে মুভিং বার্ড থাকে। HDD এর ভিতরে ডিভিডির মত একটি প্লেট থাকে যেটা খুবই স্পীডে ঘুরতে থাকে। HDD এর স্পীড সাধারণত 5400rpm থেকে 7200rpm পর্যন্ত হয়ে থাকে। অর্থাৎ মিনিটে  ৫৪০০ থেকে ৭২০০ বার ঘুরতে পারে যত rpm বেশি হবে তত স্পীডে ঘুরবে এবং সেই হিসেবে ডাটা ট্রান্সফার করবে। সুবিধা: আপনার খরচ কম পড়বে।কম খরচে বড় ক্যাপাসিটি পাবেন। যেমন, 1TB,2TB,5TB,10TB ইত্যাদি।এটা খুব সহজেই পাওয়া যায়। যে কোন ছোট-খাটো মার্কেটে গেলেই পাওয়া যাবে। অসুবিধা: HDD (হার্ড ড্রাইভ) এর লাইফ টাইম কম। এটা এটা আপনার ব্যবহারেরর উপর নির্ভর করে সাধারণত ৪-৫ বছর পরপর চেন্জ করতে হয়। তারপর এটা ডেমেজ হতে পারে, কাট হতে পারে, ফেইলড হতে পারে।আপনার ল্যাপটপ হাত থেকে পড়ে গেলে বা কোনো সামান্য আঘাত পেলে এটি কাট হতে পারে, ফেইলড হতে পারে এবং আপনার যে ডাটা আছে সেগুলো নষ্ট হতে পারে।স্পীড অনেক কম পাওয়া যায়, আপনি খুব বেশি স্পীডে কাজ করতে পারবেন না।এটা বেশি পাওয়ার ইউজ করে।  ২/SSD (Solid State Drive): নাম থেকে বোঝা যাচ্ছে এটা সলিড, মানে এটাতে কোন মুভিং বার্ড নেই। এটি একটি ফ্লাশবেজ স্টোরেজ অর্থাৎ রেম এর মতো ফ্লাশের সাহায্যে এই স্টোরেজকে বানানো হয়ে থাকে। ফ্লাশ মেমোরি সম্পর্কে বিস্তারিত লিংকে পাবেন:https://en.m.wikipedia.org/wiki/Flash_memory সুবিধা: এটার স্পীড একটা সাধারণ HDD এর থেকে…

Continue ReadingHDD,SSD নাকি SSHD? কোনটা নিব?

Complexity Analysis

আবুল এবং কাবুল ২ বন্ধু কম্পিউটার সায়েন্স এর স্টুডেন্ট। তো একদিন হলো কি তাদের শিক্ষক মিস্টার বাবুল সাহেব তাদের দুই জন কে ডেকে বলল যে তাদের দুই জনকে পৃথক পৃথক ভাবে একটি প্রোগ্রাম লিখে আনতে হবে যেটি কিনা কোন সংখ্যার বর্গ বের করে দিবে। তো তারা বাড়িতে গিয়ে নিজেদের চুল ছিড়ে ,অনেক কষ্টের ফলে,অনেক মাথা ঘামিয়ে দুইজন দুই রকমের প্রোগ্রাম লিখে ফেলল। আবুলের প্রোগ্রামের অ্যালগরিদমটা ছিল এমন-for i=1 to n do n = n+n//যখন লুপ থেকে বের হবে তখন সেই ইনপুট দেয়া সংখ্যাটির বর্গ পাওয়া যাবে।return n; এদিকে কাবুল একটু চালাক টাইপের ছেলে । সে করল কি প্রোগ্রাম টা একটু অন্যভাবে লিখে ফেলল। তার প্রোগ্রাম এর অ্যালগরিদম ছিল এরকম-/*ইনপুট হিসেবে নেয়া সংখ্যাটাকে দুই বার গুন করলেই তো বর্গ পাওয়া যাবে। তাই সে শুধু সংখ্যা দুই টাকে গুন করে যা পাওয়া যাবে তাকেই return করল।*\return n*n; আচ্ছা এখন প্রশ্ন হলো আমরা কেন একটা কাজ কম্পিউটারকে দিয়ে করাই? উত্তরটা খুব সহজ। কম্পিউটার মানুষের থেকে খুব তাড়াতাড়ি সেই কাজটা করতে পারে। আমদের যদি এক লক্ষ সংখ্যা যোগ করতে দেয়া হয়, তাহলে আমাদের হয়তো কয়েকদিন লেগে যেতে পারে কিন্তু কম্পিটার সেটা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই করে দিতে পারে। সুতরাং আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ফ্যাক্টরটা হলো “সময়”। আবার এ ক্ষেত্রে আর একটি ফ্যাক্টর গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে । সেটি হলো মেমোরি বা স্পেস। সুতরাং একজন প্রোগ্রামারের স্বার্থকতা হলো সে কত দ্রুততার সাথে সবচেয়ে কম মেমোরি অপচয় করে প্রোগ্রামটি রান করতে পারে। আর এখানেই চলে আসে টাইম এবং স্পেস কমপ্লেক্সিটির কনসেপ্টটি । তো টাইম ও স্পেস কমপ্লেক্সিটি পরিমাপ করার জন্য বিভিন্ন গাণিতিক ফাংশন আছে । তবে আমরা সব ধরনের জটিলতা উপেক্ষা করে এখানে শুধু মাত্র বিগ-ও (O) ফাংশন নিয়েই আলোচনা করব। আচ্ছা এখন আমরা ছোট্ট একটা অ্যালগরিদম লিখে…

Continue ReadingComplexity Analysis

লিনাক্স বান্ধব দেশ গড়ি

অনেকের মুখেই শুনেছি 'লিনাক্স ' শব্দ টা। ইন্টারনেটেও অনেক জায়গাতেই এই নাম টা দেখতে পাওয়া যায়। কেউ বলে এটা একটা সফটওয়্যার , কেউ বা বলে অপারেটিং সিস্টেম , আবার কেউ বা বলে নতুন কোনো গেইম হয়ত। অনেকের মধ্যেই এমন জল্পনা কল্পনার আভাস পাওয়া যায়। লিনাক্স আসলে কি? কি হয় এইটা দিয়ে? .. এরকম আরও অনেক প্রশ্নই আমাদের মাথায় ঘুরপাক খায়। আবার কখনো কখনো মনে হয় কোনো একটি অপারেটিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে। লিনাক্স কি? লিনাক্স কি সেটা বলার আগে বলতে চাই অপারেটিং সিস্টেম বলতে কি বুঝায়। অপারেটিং সিস্টেম হলো এক ধরণের সিস্টেম সফটওয়্যার যা আমাদের মিনি কম্পিউটার, পার্সোনাল কম্পিউটার , সার্ভার কম্পিউটার থেকে সুপার কম্পিউটার পর্যন্তও ব্যবহৃত হয়। এই অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারটির কাজ টা আসলে কি। এই সফটওয়্যার টি আমাদের কম্পিউটার কে অপারেট করে। আমাদের কম্পিউটারের দেখতে পাওয়া অংশ গুলো হলো মনিটর, কিবোর্ড, সিপিইউ, প্রিন্টার ইত্যাদি। এই সবগুলো অংশের ভিতরেই রয়েছে ইলেক্ট্রনিক সার্কিট বা হার্ডওয়্যার। এই ইলেক্ট্রনিক হার্ডওয়্যার গুলো কিভাবে কি কি কাজ করবে তার নির্দেশনা গুলো অপারেটিং সিস্টেমে দেওয়া থাকে। সোজা কথায় এই হার্ডওয়্যার গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার এ দেওয়া থাকে।এ রকম কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম এর নাম হলোঃ মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, ম্যাক ওএস, এন্ড্রোয়েড, উবুন্টু (লিনাক্স), আর্চ (লিনাক্স), ইউনিক্স ইত্যাদি।অপারেটিং সিস্টেমকে (Operating System) সংক্ষেপে ওএস (OS) বলা হয়। প্রথমত বলতে চাই লিনাক্স আসলে কোনো অপারেটিং সিস্টেম এর নাম নয়। মানে??? লিনাক্স তাহলে কিসের নাম। হ্যাঁ, লিনাক্স হচ্ছে 'কার্নেল' এর নাম। আর কার্নেল হচ্ছে এক ধরেন সফটওয়্যার প্যাকেজ । যে সফটওয়্যার টি অপারেটিং সফটওয়্যার এর সাথে হার্ডওয়্যার এর সংযোগ স্থাপন করে। মানে হচ্ছে কার্নেল একধরণের ব্রিজ বা হাব এর মত কাজ করে। একটু যদি পরিষ্কার করে বলতেন! আচ্ছা বুঝিয়ে বলতেছি। সর্বপ্রথম 'লিনাস টরভাল্ডস' নামের একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার যিনি ইউনিক্স…

Continue Readingলিনাক্স বান্ধব দেশ গড়ি