You are currently viewing স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শুভেচ্ছা

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শুভেচ্ছা

  • Post author:

একটি ক্ষুদ্র আয়তনের দেশ হয়েও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রযুক্তিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে সারা বিশ্বের নিকট একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে জন্ম নেওয়া এই বাংলাদেশকে আজকের অবস্থায় আসতে অতিক্রম করতে হয়েছে হাজার প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু দেশটির স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তিতে আজ একটি কথা বলতেই হয়, বাংলাদেশ প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেক এগিয়ে গিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে এবং তার বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে। বিগত কয়েক বছরে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের অভিযাত্রায় প্রযুক্তির অভূতপূর্ব সম্প্রসারণ ঘটেছে। প্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা পৌঁছে গিয়েছে মানুষের দোরগোড়ায়। বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তির এই অবিস্মরণীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আখ্যায়িত করেছেন ” ডিজিটাল রেনেসাঁ বা ডিজিটাল নবজাগরণ” হিসেবে।

তথ্য প্রযুক্তি খাতের অর্জন ও সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আমাদের জন্য বয়ে এনেছে সম্মান। ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেছিলেন। নোবেল জয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে “বিশ্বকে চমকে দেবার মত সাফল্য আছে বাংলাদেশের।”

আইসিটি অবকাঠামো গড়ে তোলার অংশ হিসেবে জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত কানেক্টিভিটি সম্প্রসারিত করেছে। ৫৮ টি মন্ত্রণালয়, ২২৭ টি অধিদপ্তর, ৬৪টি জেলার প্রশাসনের কার্যলয়কে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।

এরপর যশোরে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ, সিলেটে ইলেক্ট্রনিক সিটি স্থাপন, রাজশাহীতে বরেন্দ্র সিলিকন সিটি স্থাপন, নাটোরে আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কতৃপক্ষের মাধ্যমে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি সফটওয়্যার পার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছরেরও কম সময়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন “বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট – ১” উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ বর্তমানে প্রযুক্তিতে কতটা এগিয়ে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেবার অভিপ্রায়ে দেশের ৪৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫০০০। দেশের সবক’টি উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি  ৩ ৭লাখ। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং। সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ৪-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্কের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পরিণত হয়েছে দেশের সকল কাঠামোর মেরুদ- হিসেবে। বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার ধীরে ধীরে আরো প্রসারিত হচ্ছে।

‘প্রযুক্তি প্রগতির পথ হিসাবে গণ্য, ডিজিটাল বাংলাদেশ হতে হবে সকলের জন্য’। আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে RoboAdda. সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

Leave a Reply