You are currently viewing বিজি লাইফকে ইজি করতে গুগল (পর্ব ১)

বিজি লাইফকে ইজি করতে গুগল (পর্ব ১)

গুগল ড্রাইভ: ডিজিটাল দুনিয়ার আশীর্বাদ

গুগল ড্রাইভ অনেকটা আশীর্বাদের মত মনে হয় আমার কাছে। ফাইল স্টোরেজ, ডাটা ব্যাকআপ, শেয়ারিং এর মত নিত্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো খুব সহজ করে দিয়েছে গুগল ড্রাইভ। আর এর সাথে গুগল ডক, গুগল ফটোজ ইত্যাদি সংযুক্ত করে ব্যাপারটা আরো সহজ করেছে।

১. অনলাইন স্টোরেজ: গুগল একাউন্ট খুললেই আপনি পাবেন ১৫ জিবি ফ্রি অনলাইন স্টোরেজ। এখানে যেকোনো ফাইল (ছবি, ভিডিও, ডকস, শীট, পিডিএফ ইত্যাদি) স্টোর করতে পারবেন। লিংক শেয়ার করতে পারবেন যেকারো সাথে।

২. শেয়ারিং: ধরুন আপনি কাউকে একটা ফাইল পাঠাবেন, স্বাভাবিকভাবে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাঠাই। কিন্তু সেখানে ফাইলটি কম্প্রেস করে সাইজ কমানো হয়। তাই কোয়ালিটি কমে যায়। যদি মেইলে পাঠাতে চান সেক্ষেত্রে ২৫ মেগাবাইট এর বেশি ফাইল সাইজ হলে পাঠাতে পারবেন না।

তাহলে উপায়? খুবই সহজ, ড্রাইভে আপলোড করে লিংক শেয়ার করুন। 

৩. শেয়ারড ফোল্ডার: এছাড়া ড্রাইভে কোনো ফোল্ডার শেয়ার করতে পারেন। কোনো ফোল্ডার টিমের সাথে শেয়ার করে সেখানে সবাই নিজের ড্রাইভ থেকে ফাইল আপলোড, ডাউনলোড করতে পারেন। এছাড়া গুগল ড্রাইভ কে সার্ভার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। এখানে কোনো ফাইল রেখে সেটার ডাউনলোড লিংক ব্যাবহার করতে পারেন আপনার সুবিধামত কাজে।

গুগল ডকসের হিডেন সিক্রেট

গুগল ডক- এই নামটি সবার পরিচিত হলেও এর অনেক কাজই আমাদের অজানা। গুগলের অনেকগুলো সেবার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গুগল ডক। বর্তমানে এই সেবাটিকে গুগলের অনলাইন স্টোরেজ সুবিধা গুগল ড্রাইভের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

১. টেমপ্লেট গ্যালারি: গুগল ডকের আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে টেমপ্লেট গ্যালারি। এই টেমপ্লেট গ্যালারিতে দারুণ দারুণ সব টেমপ্লেট রয়েছে। এখান থেকে সহজেই প্রয়োজন অনুযায়ী বাছাই করা যায় পছন্দের টেমপ্লেটটি। বিভিন্ন টেমপ্লেট ব্যবহার করে আপনি সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন যেকোন সার্টিফিকেট, প্রজেক্ট অথবা চমৎকার একটি সিভি।

২. অফলাইন এডিটিং: গুগল ডকে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই যে কোন ডকুমেন্ট ক্রিয়েট, এডিট এবং ভিউ করা যায়। ইন্টারনেটের চিন্তা না করে তাই নিজের মনে এডিটিং-এর কাজ করা যায়। এজন্য অবশ্য গুগল ডকে অফলাইন মোডটি সেট করে নিতে হবে।

৩. ভয়েস টাইপিং: অনেক সময়ই টাইপ করতে আলসেমি লাগে। মনে হয়, কেউ এসে যদি কী-বোর্ড চেপে লিখে দিত! এই কাজটি সহজ করতে গুগল ডক-এ যোগ হয়েছে ভয়েস টাইপিং। টাইপ না করেই লেখা যাবে এই সেবাটি দিয়ে। এখন থেকে টাইপ করতে যদি আলসেমি লাগে তাহলে এই ফিচারটি নিঃসন্দেহে আপনার বেশ কাজে দেবে।

 ৪. “Explore” অপশন: গুগল ডকে “Explore” অপশনটিতে ক্লিক করে খুঁজে নিতে পারেন ডকুমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট অথবা ছবি। যা পরবর্তীতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণামূলক যে কোন ডকুমেন্ট লেখার জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী।

এর মাধ্যমে যে কোন পি ডি এফ অথবা ইমেজকে টেক্সট ফরম্যাটে নিয়ে কাজ করা যায়

৫. সাজেস্টিং মোড: গুগল ডকে রয়েছে সাজেস্টিং মোড অপশন। এর মাধ্যমে যে কোন ডকুমেন্ট সরাসরি পরিবর্তন না করে আপনি লেখককে সাজেস্ট করতে পারেন। আপনার মতামতটি দেখে লেখক পরবর্তীতে তাঁর প্রয়োজনমত এডিট করে নিতে পারবেন।

৬. পিডিএফ কনভার্টার: গুগল ডকে পিডিএফ কনভার্টার রয়েছে। এর মাধ্যমে যে কোন পি ডি এফ অথবা ইমেজকে টেক্সট ফরম্যাটে নিয়ে কাজ করা যায়। এমনকি স্ক্যানড্ পিডিএফ কপিও গুগল ডকের মাধ্যমে এডিট করা যায়। এতে করে অফিসিয়াল কাজকর্ম অনেক সহজ হয়ে যায়।

৭. ইমেজ এডিটিং: আজকাল প্রায় ডকুমেন্টেই কোন না কোন ইমেজ বা ছবি সংযুক্ত থাকে। অনেক সময়ই ডকুমেন্টের ইমেজটি এডিট করার প্রয়োজন পড়ে। সাধারনত কোন ডকুমেন্ট থেকে ইমেজ এডিট করার জন্য আলাদা অ্যাপ্লিকেশন এর প্রয়োজন হয়।

গুগল ডকের মাধ্যমে সহজেই এই কাজটি করে ফেলা যায় কোনরূপ অ্যাপ্লিকেশন ছাড়াই।

গুগল ডকে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট ইত্যাদি সহ প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের ফিচারই রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, সফটওয়্যারটি অনলাইন নির্ভর। গুগল ড্রাইভের মাধ্যমে যে কোন ব্যবহারকারী এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারেন।

সর্বোচ্চ ১৫ গিগাবাইট পর্যন্ত ডকুমেন্ট তৈরি, আপলোড ও শেয়ার করার সুযোগ রয়েছে এতে। অনলাইনের পাশাপাশি অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ব্যবহার করার জন্য গুগল ডকের আলাদা অ্যাপসও রয়েছে।

গুগল ফটোজ: ম্যাজিক গ্যালারি

গুগলের অন্যতম একটি সেবা গুগল ফটোজ। এখানে আপনি আপনার ডিভাইসের ছবির ব্যাকআপ রাখতে পারবেন। হাজার হাজার ছবি সাজাতে পারবেন খুব সহজেই। আর প্রয়োজনীয় ছবি খুঁজে পাবেন আরো সহজে। 

১. হারাবে না আর কোনো ডেটা: আমাদের ডিভাইস যেকোন সময় নষ্ট হতে পারে কিংবা হারিয়ে যেতে পারে। সাথে হারিয়ে যেতে পারে ফোনে থাকা আপনার শখের হাজার হাজার ছবি। কিন্তু আপনি চাইলে গুগল ফটোজ ব্যাবহার করে খুব সহজে ব্যাকআপ রাখতে পারেন আপনার দরকারী ফোল্ডার গুলো। সেটিংস থেকে ঠিক করে দিবেন আপনার কোন ফোল্ডার দরকার, সেই ফোল্ডারে প্রতিটা নতুন ছবি/ভিডিও সংযুক্ত হবার সাথে সাথে সংক্রিয়ভাবে ব্যাকআপ হবে গুগলে। তবে ইন্টারনেট সুবিধার উপর ভিত্তি করে আপনি সেটিংস থেকে ঠিক করে দিতে পারেন মোবাইল ডাটা বা ওয়াইফাই কোনটা ইউজ করে ব্যাকআপ করবেন।

২. আনলিমিটেড স্টোরেজ: গুগল ড্রাইভে ১৫ জিবির লিমিটেড স্টোরেজ থাকলেও গুগল ফটোজ থেকে পাবেন আনলিমিটেড স্টোরেজ। সেটিংস থেকে আপলোড সাইজ “High quality” নির্বাচন করুন আর পেয়ে যান আনলিমিটেড স্টোরেজ।

৩. ফোনের উপর চাপ কমান: স্মার্টফোনের ক্যামেরা আজকাল বেশ ভালো। এতে করে আমাদের ছবি তোলার হার ও অনেক বেশি বেড়ে গেছে। আমরা প্রচুর ছবি তুলি আর ক্যামেরা ভালো হওয়াতে ছবির সাইজ ও বেশি হয়। তাই ফোনের স্টোরেজ বেশি থাকলেও সেটা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনি চাইলে গুগলে ব্যাকআপ করে ফোন থেকে ফাইলগুলো ডিলিট করে দিয়ে চাপ কমাতে পারেন ফোনের উপর থেকে। তবে পরবর্তীতে ওই ছবি খুঁজে পেতে আপনার ইন্টারনেট কানেকশন প্রয়োজন হবে।

৪. তৈরি করুন অ্যালবাম: আপনার পছন্দের ছবি একসাথে করে তৈরি করতে পারেন অ্যালবাম। আর সেটা শেয়ার করতে পারেন অন্যদের সাথেও। ছবি সিলেক্ট করে প্লাস বাটন থেকে পেয়ে যাবেন অ্যালবাম তৈরি করার অপশন।

৫. পিপল অ্যান্ড পেটস: আপনার গুগল ফটোজে আপলোড করা সব ছবি থেকে বাছাই করে আলাদা মানুষ বা পোষা প্রাণী চিনবে গুগল। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যাবহার করে মানুষ বা প্রাণীর চেহারা চিনে আলাদা করতে পারবে গুগল। কিছুদিন আগ পর্যন্ত এখানে শুধু মানুষের ছবি চিনতে পারতো, খুব সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে পোষা প্রাণী চেনার অপশন। 

ধরুন আপনার এক বন্ধুর জন্মদিন, তাকে উইশ করার জন্য তার ছবিগুলো থেকে একটি বাছাই করবেন। খুব সহজে তার নামের উপর ক্লিক করে পাবেন তার সব ছবি। 

৬. চিনে সব কিছু: ধরুন আপনার নদীতে ঘুরতে যাওয়ার ছবি গুলো দেখতে চান কিংবা কোনো বার্থডে অনুষ্ঠানের ছবি দেখতে চান। ফটোজে “River” বা “Birthday” লিখে সার্চ করলেই সব ছবির মধ্যে থেকে নদীর ছবি না বার্থডের ছবি আলাদা করে দেখাবে আপনাকে। গুগল ধীরে ধীরে আপডেট করছে তার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম। আরো সূক্ষ্মভাবে খুঁজে বের করতে পারছে যতদিন যাচ্ছে। আর আমরাও দেখছি একটা মেশিন কিভাবে শিখছে, কিভাবে ডেভেলপ করছে তার বুদ্ধিমত্তা।

৭. সার্চ করুন যেকোন কিছু: শুধু বার্থডে বা নদী না, আপনি সার্চ করতে পারেন যেকোন কিছু। পাশাপাশি আপনি লোকেশন লিখে সার্চ করলে পাবেন সেই লোকেশনে তোলা আপনার সব ছবি। তাই হাজার হাজার ছবির মধ্যে কাঙ্খিত ছবি খুঁজে পাওয়া খুবই সহজ হবে।

গুগলের এই সেবা গুলো আমাদের প্রতিদিনের কাজগুলো কে করেছে আরো সহজ। অনেক জটিল কাজ আমরা খুব সহজে করতে পারছি আজকাল। আরো অনেক সেবা দিয়ে আমাদের বিজি লাইফকে ইজি করছে গুগল। সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবো সামনের পর্বগুলোতে। 

Reference: https://support.google.com/ https://blog.10minuteschool.com/%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a6%b2-%e0%a6%a1%e0%a6%95%e0%a6%b8-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ac%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc/

Minhajul Abedin

Passionate | Ideator | Dreamer