You are currently viewing ডেটা কম্প্রেশন

ডেটা কম্প্রেশন

আমরা যারা ল্যাপটপ , কম্পিউটার বা অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস প্রতিনিয়ত ব্যবহার করি তারা সবাই প্রায়শই ডেটা কম্প্রেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকি। এটি আমাদের ডেটা ট্রান্সমিশন বা সংরক্ষণের কাজকে অনেক সহজ করে তোলে।

ডেটা কম্প্রেশন কি ?

ডেটা কম্পেশন হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে ডেটা বা তথ্য সংকোচন করে সংরক্ষন করা হয়। এ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে ডেটার আকার কমে যায়। ফলে তা খুব কম জায়গায় সংরক্ষন করা যায় এবং সহজে ট্রান্সমিশন করা যায়।

ডেটা কম্প্রেশন মেথডঃ

ডেটা কম্প্রশিং সাধারনত দুই ভাবে করা হয়। লসলেস(Loss less) এবং লসি(Lossy).

লসলেস পদ্ধতিতে ডেটার কোন লস হয় না বা হারিয়ে যায় না। এক্ষেত্রে ডেটা ডিকম্পেশন করার সময় তা পুনরায় আগের অবস্থাতেই ফিরে যায়। এ পদ্ধতিতে Statistic modeling technique ব্যবহার করে ডেটা কম্প্রেস করা হয়।

লসি (Lossy) পদ্ধতির ক্ষেত্রে কিছু ডেটা সম্পূর্ণ ভাবে হারিয়ে যায় এবং ডিকম্প্রসিং এর সময় ডেটা আর আগের অবস্থাতে ফিরে আসে না। এক্ষেত্রে কিছু অপ্রজোনীয় বিট এবং অতিরিক্ত ডেটা অপসরণ করা হয়। সাধারনত ভিডিও, অডিও, ছবি এবং গ্রাফিক্স এর ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

ডেটা কম্প্রেশনের মুলনীতি

ডেটা কম্প্রেশন অ্যালগরিদম সোর্স ইনফরমেশনকে এনকোড করতে যে পরিমান সিম্বল লাগবে তার সংখ্যা কমিয়ে দেয়। ফলে প্রসেস করা ডেটা হার্ড ড্রাইভে কম জায়গা দখল করে।

ডেটা কম্প্রেশনকে দুটো সাধারণ প্রসেসে ভাগ করা যায়। একটি হল এনকোডিং অ্যালগরিদম (encoding algorithm) এবং অন্যটি ডিকোডিং অ্যালগরিদম (decoding algorithm)। এনকোডিং অ্যালগরিদম সোর্স ইনফরমেশন গ্রহন করে এবং সেটিকে কম্প্রেসড আকারে উপস্থাপণ করে। আর ডিকোডিং অ্যালগরিদম কম্প্রেসড করা ডেটাকে পুনরায় মুল ডাটাতে গঠন করে।

এই এনকোডিং এবং ডিকোডিং প্রসেসে কিছু ডেটার লস হতে পারে।

ডেটা কম্প্রেশনের ইতিহাস

১৮৩৮ সালে টেলেগ্রাফিতে ব্যবহারের জন্য মোর্স কোড আবিষ্কার করা হয় যা ছিল ডেটা কম্প্রেশনের প্রাথমিক উদাহরণ। আধুনিক ডেটা কম্প্রেশনের সূচনা ঘটে ১৯৪০ এর দিকে ইনফরমেশন থিওরির ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে। ১৯৪৯ সালে ক্লদ শান্নন (Claude Shannon) এবং রবার্ট ফানো (Robert Fano) প্রবাবিলিটিস অফ ব্লকস এর উপর নির্ভর করে কোড ওয়ার্ড অ্যাসাইন এর একটি পদ্ধতির পরিকল্পনা করেন যা Shannon-Fano coding নামে পরিচিত। তাদের পদ্ধতিটি ভেরিয়েবল লেনথ এনকোডিং এর ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর ছিল। ১৯৫১ সালে ডেভিড হাফম্যান (David A. Huffman) frequency-sorted binary tree পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন যা Shannon-Fano coding এর চেয়ে বেশি কার্যকর। বর্তমানে অন্যান্য কম্পেশন মেথড এর ব্যাকএন্ড হিসেবে কাজ করে।

১৯৭৭ সালে Abraham Lempel এবং Jacob Ziv ডেটা কম্প্রেশনের ground-breaking LZ77 এবং LZ78 অ্যালগরিদম উদ্ভাবন করেন যেটা খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানের কিছু বহুল ব্যবহারিত অ্যালগরিদম যেমনঃDEFLATE, LZMA এবং LZX নেওয়া হয়েছে LZ77 থেকে। LZ78 এর পেটেন্ট ইস্যু থাকায় ইউনিক্স ডেভেলপাররা ওপেন সোর্স অ্যালগরিদম এর দিকে অগ্রসর হন।

ডেটা কম্প্রশনের সুবিধা

  • ডেটা কম্প্রেশনের মাধ্যমে ফাইলের আকার হ্রাস করা হয় ফলে তা খুব কম সময়ে এবং সহজে ট্রান্সমিশন করা যায়।
  • ডেটা খুব কম স্টোরেজ স্পেসে সংরক্ষণ করা যায়
  • ফাইল কম্প্রেশনের মাধ্যমে অনেকগুলো ছোট ছোট ফাইলকে একটি ফাইলে জিপ আপ করা হয় যা ইমেইল ট্রান্সমিশনে সুবিধা পাওয়া যায়।
  • মুল ডেটার তুলনায় কম্প্রেসড ডেটা খুব তাড়াতাড়ি রিড করা যায়
  • ডেটা কম্প্রেশন বাইট অর্ডার ইন্ডিপেনডে্ডেন্টট

টেকনোলজির জগতে ডেটা কম্প্রেশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার যা আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে থাকি।

Leave a Reply