You are currently viewing জৃম্ভণ || Yawn

জৃম্ভণ || Yawn

  • Post author:

আজব এক শব্দ। এই শব্দের অস্তিত্বের কথা আমরা খুব কম মানুষই হয়তো জানি। তবে প্রচলিত বাংলায় আমরা জৃম্ভণকে হাই তোলা বলে চিনি। ইংরেজীতে Yawn বলে। এবং আমরা সচরাসচরই হাই তুলে থাকি। মায়ের পেটের সন্তান থেকে মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধও হাই তোলে।কিন্তু আমরা কখনো কি ভেবে দেখেছি আমরা কেন হাই তুলি? সাধারণত এর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিজেরাও এখনো সন্দিহান। তবে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়ে গিয়েছেন, তার মধ্যে কিছু মত এখন বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করব।একটি প্রতিষ্ঠিত ধারণা মোতাবেক বলা হয়, আমরা যখন কোনো কাজ করতে করতে একঘেয়ে অনুভব করি বা ক্লান্ত অনুভব করি অথবা অলসের মতো একদৃষ্টিতে বসে থাকি তখন আমরা সাধারণের চেয়ে কম মনোযোগে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ করি। অর্থাৎ তখন আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের হার অন্যান্য সময়ের থেকে কম হয়ে থাকে। তার ফলে আমাদের রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ অন্য সময়ের থেকে কমে যায়। তখন আমাদের রক্তে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের এই সামঞ্জস্য রক্ষা করার জন্য আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের হাই তুলে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড লেভেলের সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলে। তাহলে কি আমরা যদি বেশি বেশি অক্সিজেন নেই আর কার্বন ডাই অক্সাইড নেই তাহলে কি আমাদের হাই উঠবে না??আরেকটি মতবাদ অনুযায়ী হাই তোলার মাধ্যমে আমাদের দেহের বিভিন্ন টিস্যুর সংযোগকে সহজ করতে সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া আমাদের ফুস্ফুসের আশাপাশে এক ধরনের লুব্রিকেন্ট নিঃসৃত করে যা আমাদের ফুস্ফুসকে কাজ করতে সাহায্য করে।তবে হাই তোলা সম্পর্কে সবচেয়ে মজার এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য হচ্ছে, হাই তোলা অনেকটা সংক্রামক রোগের মতো। আমরা যদি কাউকে হাই তুলতে দেখি( আশেপাশে কেউ যদি হাই তোলে) বা আমরা যদি হাই তোলা নিয়ে আলোচনা করি তাহলে আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের হাই তুলতে বাধ্য করে। এবং আমরা কাউকে দেখেই বা সাদৃশ্যপুর্ণ কোনো বিষয়ের সংস্পর্শে এসেই আমরা সাধারণত হাই তুলে থাকি।

এখন আপনি কতবার হাই তুলেছেন এই লেখাটি পড়ার সময়??

Leave a Reply