You are currently viewing গন্ধ

গন্ধ

  • Post author:

সেটা হতে পারে ভেজা মাটির কিংবা ভাগাড়ের। সাধারণ একটি বিষয় আমাদের জন্য।তাই না? কিন্তু কখনো আমরা কি চিন্তা করেছিলাম যে এই গন্ধ আমরা পাই কিভাবে? আমাদের নাকে এই অনুভূতির জন্মই বা হয় কিভাবে?আমাদের কোনো কিছুর গন্ধ গ্রহণ বা স্বাদ নেওয়ার এই প্রক্রিয়াগুলো আমাদের Chemo-sensory System এর অন্তর্ভুক্ত। আর এই গন্ধের অনুভূতি গ্রহণের প্রধান মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করে এক বিশেষ অনুভূতি বিশেষজ্ঞ কোষ, যাকে olfactory sensory neurons বলা হয়। যারা মূলত আমাদের নাকের টিস্যুর মধ্যে কিংবা কোষের আশেপাশে অবস্থান করে। এই প্রত্যেকটি olfactory কোষ সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে।এবং প্রত্যেকটি olfactory কোষে কেবলমাত্র একটি গন্ধকে (One odor receptor) গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকে। যখনই আমাদের আশেপাশে কোথাও কোনো বস্তু থেকে অতি ক্ষুদ্র কণা (microscopic molecules) ব্যাপনের মাধ্যমে আমাদের আশেপাশে ছড়িয়ে পরে, তখন কিছু কণা বাতাসের সঙ্গে আমাদের নাকেও প্রবেশ করে ।আর তখনই সেই কণাগুলো দ্বারা আমাদের নাকে অবস্থিত olfactory রিসেপ্টরগুলো উদ্দীপ্ত হয়। একটি গন্ধযুক্ত কণা কেবলমাত্র একটি রিসেপ্টরকেই উদ্দীপ্ত করতে পারবে। আর যখন একটি রিসেপ্টর উদ্দীপ্ত হবে, সাথে সাথে সেই সিগন্যাল সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কে একটি গন্ধের অনুভূতি সৃষ্টি করবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক কিভাবে প্রত্যেকটি গন্ধ ঠিকভাবে ধরতে পারে? আমরা প্রত্যেকবার যখন নতুন করে কোনো গন্ধ অনুভব করি তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই গন্ধে একটি আলাদা ট্যাগ লাগিয়ে দেয় । যখন পরবর্তীতে আবার সেই গন্ধটি আমাদের নাকে আঘাত হানে তখন মস্তিষ্কে সেই সিগন্যাল যাওয়ার সাথে সাথেই মস্তিষ্ক বুঝতে পারে যে , আরেহ এটা তো ওই বিরিয়ানীর গন্ধ, ওইদিন যে আমি খেয়েছিলাম। অনেকটা কোনো সুপার শপের পণ্যের ওপর লাগানো প্রাইসট্যাগের বারকোডের মতো। কেউ কোনো পণ্য কাউন্টারে নিয়ে আসলে বারকোড যেমন স্ক্যান করে দেখে যে পণ্যের যাবতীয় তথ্য ও দাম কি। ঠিক তেমনি আমাদের নাকের olfactory রিসেপ্টর হলো বারকোড স্ক্যানার এবং আমাদের মস্তিষ্ক হলো বারকোড থেকে তথ্য উদ্ধারকারী। অনেকে বলে, চোখে দেখতে না পেলে নাকি পৃথিবীর সৌন্দর্যই বোঝা যায় না। কিন্তু আমি বলব olfactory রিসেপ্টর না থাকলে পৃথিবীর সৌন্দর্য অনুভবই করা যাবে না।

Leave a Reply