You are currently viewing দ্যা মার্শম্যালো টেস্ট

দ্যা মার্শম্যালো টেস্ট

আমাদের চারপাশে তো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট হয়। সেরকমই একটি বিখ্যাত এক্সপেরিমেন্ট ‘দ্যা মার্শম্যালো টেস্ট’। ১৯৬০ এর দশকে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়াল্টার মিশেল মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সময় এই মার্শম্যালো টেস্ট করেন। মার্শম্যালো টেস্টর জন্য মিশেল এবং তার টিম শতাধিক চার থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের নির্বাচিত করে। তারা মূলত এই টেস্টের মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য, কাজ এবং সাফল্য সম্পর্কে ধারণা নেয়।

মার্শম্যালো টেস্টটি করার জন্য প্রথমে প্রত্যেক শিশুকে আালাদা আলাদা কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক শিশুকে একটি আলাদা চেয়ারে বসিয়ে তার সামনে একটি টেবিলে মার্শম্যালো রাখা হয় যা শিশুদের কাছে খুবই লোভনীয়৷ তারপরে শিশুদের সাথে গবেষক দল একটি চুক্তি করে। গবেষক দল প্রত্যেক শিশুকে আলাদা কক্ষে একা রেখে চলে যাবে। যদি একা থাকাকালীন কোনো শিশু মার্শম্যালো না খায় তাহলে তাকে আরো একটি মার্শম্যালো দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। কিন্তু যদি কেউ প্রথমবারে মার্শম্যালোটি খায় তাহলে সে দ্বিতীয়বার আরেকটি মার্শম্যালো পাবেনা। চুক্তি অনুযায়ী গবেষক দল পনেরো মিনিটের জন্য শিশুদের একা রেখে চলে যায়।

আমাদের মনে হতে পারে যে শিশুদের অপেক্ষা করার ব্যাপরটা খুব মজার ছিলো! কিন্তু কিছু শিশু দরজা বন্ধ করার সাথে সাথে লাফিয়ে উঠে মার্শম্যালো খেয়ে ফেলেছিলো। আর কিছু শিশু নিজেকে সংযত রাখার জন্যে চেয়ার ধরে ঝাঁকুনি দিচ্ছিলো। শেষ পর্যন্ত কিছুসংখ্যক শিশু পুরো সময় অপেক্ষা করেছিলো।

তবে এই এক্সপেরিমেন্ট এর আসল টুইস্ট জানা গিয়েছিলো বেশ কয়েক বছর পরে। শিশুরা বড় হওয়ার পরে গবেষক দল তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে। তাদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে। এরপরে গবেষকরা যেই সিদ্ধান্তে এসেছিলো তা ছিলো সত্যিই অবাক করার মতো! গবেষকদের মতে, যেই শিশুরা মার্শম্যালো না খেয়ে অপেক্ষা করেছিলো তাদের SAT স্কোর অন্যদের তুলনায় ভালো ছিল, মানসিক চাপ মোকাবেলায় তারা ছিল অনেক এগিয়ে এবং সামাজিক দক্ষতায়ও এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে যারা প্রথম সুযোগেই মার্শম্যালোটি খেয়ে ফেলেছিলো তাদের জীবনে প্রাপ্তির হার শূন্য না হলেও প্রথম গ্রুপের তুলনায় কম ছিলো।

এই এক্সপেরিমেন্টটির মাধ্যমে গবেষক দল জানায়, মূলত ধৈর্য ধরতে পারা মানুষেরা জীবনে খুব সহজে ভেঙে না পরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে এবং দিনশেষে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছায়।

Leave a Reply