আমরা যতই আধুনিকতার শীর্ষে আরোহণ করছি ততই নিজের ডেটা,তথ্য উপাত্তের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্লাউড কম্পিউটিং এবং স্টোরেজের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।চাহিদার শীর্ষে থাকার অন্যতম কারণ হলো পোর্টেবল সিস্টেম অর্থাৎ কোনো হার্ডকপি সাথে রাখা ব্যতীতই পৃথিবীর যেকোনো স্থান হতে ডেটা সহজে পার্সওয়াড প্রটেকশনে এন্ট্রি করার সুবিধা। চলুন তাইলে জেনে নেওয়া যাক ক্লাউড কম্পিউটিং সম্পর্কে।

ক্লাউড কম্পিউটিং (CLOUD COMPUTING) কি? সাধারণভাবে ক্লাউড অর্থ মেঘ। কিন্তু এক্ষেত্রে অর্থটা ভিন্ন। অনেকটা তথ্য জমা রাখার একটা ব্যবস্থা যা বাতাসের মাধ্যমে আদান প্রদান তবে বিষয়টি আরও একটু জটিল। তাহলে ক্লাউড কী? মৌলিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং মানে একটি মেশিনের সীমিত শক্তির পরিবর্তে অনেকগুলো মেশিনের শক্তি সংযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা বোঝায়। এজন্যঅনেকগুলো সার্ভার
এবং রাউটার একসাথে এক জায়গায় বসাতে হয়, অনেকটা গুদাম ঘরের মতো। যাতে করে সারা বিশ্বের মানুষজন তাদের তথ্য সংরক্ষণ এবং আদান প্রদান করতে পারে।সুতরাং ক্লাউড কম্পিউটিং অর্থ দাঁড়ায় আপনার কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভের পরিবর্তে ইন্টারনেটে ডেটা এবং প্রোগ্রামগুলিকে সঞ্চয় এবং অ্যাক্সেস করা। যেখানে আপনি আপনার সংস্থান যেমন ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, ডেটা স্টোরেজ, সার্ভার, ডাটাবেস, নেটওয়ার্কিং এবং সফ্টওয়্যার এর মতো সরঞ্জাম এবং অ্যাপ্লিকেশন হোস্ট করতে পারেন। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের প্রক্রিয়াটির একটি উদাহরণ হলো গুগলের জিমেইল।

প্রাথমিক পর্যায়ঃ
ক্লাউড এমন একটি শব্দ বা ধারণা যা এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণত এটি শুরু হয় ২০০৩ কিংবা ২০০৪ এই সময়ে। কিন্তু কমপ্যাক কম্পিউটারের ইঞ্জিনিয়ারদের ১৯৯৬
সালে কিছু ফ্রেশব্যাক যুক্ত নথিপত্র ছিল। তখন ক্লাউডেরপ্রথম ব্যবহার হয়। গুগলের এরিক স্মিথ ২০০৬ সালে এগুলো কিনে নেয় এবং পরবর্তী সময়ে ক্লাউড ব্যবসার মডেল হয়ে যায়। যখন আপনি আপনার মোবাইল থেকে গুগল ম্যাপে প্রবেশ করেন কিংবা
গুগল ডকুমেন্টে প্রবেশ করেন তখন আসলে আপনি গুগল ক্লাউডে প্রবেশ করছেন। তখন আপনার প্রয়োজন মতো তথ্য গুগল তাদের ক্লাউড থেকে আপনার সামনে উপস্থাপন করে। মাইক্রোসফট ক্লাউডের আরও এক বড় খেলোয়াড়। সম্প্রতি তারা তাদের অফিস ৩৬৫ তে ক্লাউড ফিচার যুক্ত করেছে।

বিশ্বের শীর্ষ জনপ্রিয় ১০ ক্লাউড কম্পিউটিং সংস্থাঃ
1.Microsoft Azure
2.Amazon Web 3.Services (AWS)
4.Google Cloud Platform
5.Kamatera
6.Adobe
7.IBM Cloud
8.VMware
9.Red Hat
10.Rackspace
11.Oracle Cloud

নিরাপত্তা:
যে কোনো প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য কিছু নিয়মকানুন থাকে, ক্লাউড প্রযুক্তিরও কিছু আছে। এগুলোর মধ্যে একটা ব্যপার হলো নিয়ন্ত্রণ। যখন ক্লাউডবেস সিস্টেম সরানো হয় তখন সার্ভিসদাতা কোম্পানি কিছু কিছু জিনিসের উপর নিয়ন্ত্রণ দিয়ে থাকে। যখন এতে কিছু ঝুঁকি থাকে সঙ্গে সঙ্গেই এটি অনুমতি চেয়ে থাকে। তাছাড়া হার্ডড্রাইভ চুরি/ নষ্ট/ কিংবা ভেঙ্গে যাওয়া, সার্ভার ঘর প্লাবিত হওয়া বা অভারহিট হওয়া এই সমস্যাগুলোও হয়ে

থাকে।এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুলত অনেক ব্যবহারকারীর তথ্য জমা রাখা ও আদানপ্রদান করা যায়। এছাড়াব্যবহারকারী পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কোন ডিভাইস দিয়ে তার সকল তথ্য দেখতে, পরিবর্ধন কিংবা পরিমার্জন করতে পারে।