You are currently viewing বিশ্বের নয়টি এডভান্স রোবট (Part-1)

বিশ্বের নয়টি এডভান্স রোবট (Part-1)

হ্যালো বন্ধুরা।

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষের কাজ সহজ করে দিতে পারে এমন একটি বিষয় হলো রোবট। সাধারণত রোবট বলতে বোঝানো হয় এমন এক ধরনের মেশিন যা দ্বারা এক বা একাধিক কাজ একসাথে সম্পন্ন করা যায় নিখুঁতভাবে এবং এটি Programmable। আমরা এই সিরিজের মাধ্যমে জানবো বিশ্বের নয়টি এডভান্স রোবট সম্পর্কে। যেসব রোবটগুলো Humanoid, Industrial & service রোবট যারা সমস্ত বিশ্ব পরিবর্তন করে দিচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স(AI) এর মাধ্যমে। এদের কোন কোনটি পানিতে, কোনটি আকাশে, কোনটি আগুনে কাজ করতে দক্ষ। আমাদের সিরিজ ৯টি ভাগে বিভক্ত থাকবে। যার প্রতিটি ভাগে আলোচনা করা হবে এক একটি রোবট সম্পর্কে। আজ সিরিজের প্রথম পর্ব।

রোবটগুলো হলঃ

  1. DIGIT
  2. SPOT
  3. HRP-5R
  4. PEPPER
  5. ATLAS
  6. STUNTRONIC ROBOT
  7. AQ UANAUT
  8. SURENA(IV)
  9. HANDLE

চলুন শুরু করা যাক প্রথম রোবট “DIGIT” কে নিয়ে।DIGIT সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের প্রথমে জানতে হবে এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে। Agility Robotics নামক একটি কোম্পানি প্রথম তাদের রোবট “ATRIAS” আনে 2015 সালে। Agility Robotics এর লক্ষ্য ছিল, তারা এমন কোন রোবট বানাবে যা মানুষ যে জায়গায় যেতে পারে ওই জায়গায় যেতে পারে এবং মানুষের সকল কাজ করতে পারে। Agility Robotics এর প্রথম রোবট ছিল “ATRIAS” এরপর তারা ২০১৫ সালে বাজারে আনে “CASSIE”। এবং তাদের সর্বশেষ আপডেট হল “DIGIT”।

ATRIAS in ORANGE UNIVERSITY Lab.

ATRIAS সম্পর্কে জানলে জানা হয়ে যাবে CASSIE সম্পর্কে আর CASSIE সম্পর্কে জানলে জানা হয়ে যাবে DIGIT সম্পর্কে। এই রোবট গুলো মূলত Update version যা Agility Robotics ধাপে ধাপে বাজারে এনেছে। Atrias বা Cassie কারোরই হাত ছিল না এরা মূলত পা দিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারত সাধারণ মানুষেরা যেভাবে যায়। কিন্তু Digit এর পায়ের সাথে সাথে হাতও ছিল, যা একে দিয়েছিলো নতুন নতুন কাজ করার সুবিধা।Atrias ছিলো মূলত Orange University এর project. মজার ব্যাপার হলো আরো ২টি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত ছিলো এই রোবট বানানোর কাজে। Atrias এর Programming এমন ভাবে বানানো ছিলো যে, সে মনে করতো পুরো পৃথিবীই সমতল। তাই তার মাত্র 15cm উচ্চতায় তার পা রাখতেও হিমশিম হতো। Agility Robotics এর এই রোবটটি তৈরীর সময় কর্তৃপক্ষ চেয়েছিলো যতটা সম্ভব “Spring Mass System” রাখা যায় ততটাই রাখা। তাই তারা যে পদ্মতিতে পা তৈরী করেছিলো তার নাম হলো “Serious Elastic Actuation”।

ব্যাপারটা অনেক কঠিন। তাই নাহ্? চলুন একটি ছবি ও কিছু কথার মাধ্যমে ব্যাপারটাকে সহজ করে দিই। তারা Serious Elastic Actuation বলতে যা বুছিয়েছিলো তা হলো পায়ের সংযোগ স্থলে কঠোর কোন সংযোগ ব্যাবহার না করে Spring এর মত সংযোগ ব্যাবহার করেছে। কেন? মনে প্রশ্ন আসতেই পারে? তাই না? তারা যেস ন্যানো রেঞ্জের Value গুলো পর্যন্ত সঠিক করে পায় তার কারনেই ব্যাবহার করেছিলো। যেহেতু Atrias ছিলো তাদের প্রথম Robot তাই তারা সেই Value গুলো নিয়ে দেখতে চেয়েছিলো কোথায় কোথায় তাদের Improvement দরকার।

ATRIAS Spring Leg

মজার তথ্যঃ

১/ Atrias এর কাজ শুরু হয় ২০১২ তে। বারবার নানান পরিক্ষার মাধ্যমে তারা সর্বশেষ রোবটটি প্রকাশ করে ২০১৫ এর জুন মাসের ৫তারিখ।

২/ ২০১২ সালে প্রাথমিক টেস্টে তারা Atrias এর সর্বোচ্চ গতি পায় 2.55m/s. যা ২০১৫ সালে পায় 9.1kph. বুঝতেই পারছেন, কি পরিমানে তারা তাদের গবেষণা চালিয়েছে।

৩/ ২০১৫ সালের তথ্য মতে Atrias এর সর্বোচ্চ Running speed ছিলো 7.6kph ও হাঁটার গতি ছিলো 4.3kph.

CASSIE

Cassie হলো Atrias এর পরবর্তী সংস্করন। Cassie এর প্রথম Version বাজারে আসে 2016 সালে এবং সর্বশেষ Version (V3) আসে ২০১৭ সালে। Atrias যখন তৈরী হয়েছিলো তখন Agility Robotics খেয়ল করলো রোবটটি Stady state থাকছে না। তখন তারা নতুন সংস্করনে এর সমাধান নিয়ে আসলো। Cassie ছিলো Agility Robotics এর প্রথম Stady State Robot. এবং Atrias এর মাত্র 15cm Platform এ উঠতেই সমস্যা হতো, সেখানে তো বুঝায়, যাচ্ছে সিঁড়িতে উঠার ক্ষমতা ছিলো না। Cassie সিঁড়িতে উঠতে পারতো।

মজার তথ্যঃ

১/ কে বলেছে রোবটিক্স মজার না? Cassie কে দিয়ে Squat, sit down, stand up করা যায়। যা খুবই মজার।

DIGIT

এখন চলুন মূল ব্যাপারে কথা বলা যাক। তবে নতুন বিষয় নিয়েই জানবো। Digit যেহেতু Agility Robotics এর Atrias, Cassie এর পরবর্তী সংস্করন তাই পূর্বের ব্যাখ্যা না দিয়ে চলুন নতুন কিছু জানি। Agility Robotics এর সর্বশেষ সংস্করণ হল Digit। যা পূর্বের রোবটের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা, এই রোবটের হাত এবং মাথা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে এই রোবটটি লজিস্টিক ওয়ারহাউজ, টেলিপ্রেজেন্স, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনস্পেকশন এর মত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই রোবটটি দ্বারা মালামাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খুব সহজে নিয়ে যাওয়া যায়। সর্বোচ্চ 18 কেজি ওজন বহন করতে পারে এই রোবটটি। যেহেতু মালামাল স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে তাই বিশ্বের স্বনামধন্য গাড়ির কোম্পানি ”Ford” চিন্তা করলো Agility Robotics সাথে একটা চুক্তি করা যাক। ফোর্ট তাদের Autonomous Vehicle এর মাধ্যমে Digit কে দিয়ে product delivery করানোর চিন্তা করল। এবং তারা পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হলো। vehicle এর সাথে digit এর link up করানো থাকে যাতে vehicle বুঝতে পারে Product এর কি অবস্থা।প্রশ্ন আসতে পারে কি করে Digit এ কাজটি করে থাকে। চলুন আবার একটু বুঝার চেষ্টা করি। Digit কয়েকটি Lighter sensor ও Stereo Camera দিয়ে তার Delivery কাজটি সম্পন্ন করে থাকে। যা অনেক Autonomous গাড়িতে থাকে। এই Sensor এর মাধ্যমে Digit সামনের বাধা থাকলে তা অতিক্রম করে নতুন পথ তৈরী করে নিতে পারে খুব সহজেই।

মজার তথ্যঃ

১/ Agility Robotics ২০২০ সালে 20-30 টি Digit তৈরী করে। এবং তাদের লক্ষ্য ২০২১ সালে ২গুন পরিমানে তৈরী করা।সুতরাং বোঝায় যাচ্ছে Digit বিশ্ব বাজারে কোন অবস্থায় নিজের দখল আনতে যাচ্ছে।

বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই। দেখা হবে পরের বিভাগে। আমরা সেদিন জানবে আরো নতুন একটি রোবট সম্পর্কে। সে পর্যন্ত সুস্থ থাকবেন।

N:B: All the picture collect from Internet.

Leave a Reply